মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৭ মে ২০১৯

HISTORY

আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার এ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানী লিমিটেড-এর ইতিকথা।

 

আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার এ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানী লিমিটেড দেশের অন্যতম ইউরিয়া সার কারখানা। রাজধানী ঢাকা হতে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে মেঘনা নদীর পূর্ব তীরে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার আশুগঞ্জে এ কারখানা অবস্থিত। দেশ স্বাধীন হওয়ার অব্যবহিত পরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় আশুগঞ্জে একটি ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৯৭৪ সালের অক্টোবর মাসে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার এ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানী (এএফসিসি) নামে এ কারখানা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানী রূপে যাত্রা শুরু করে। ১২ ফেব্রুয়ারী ১৯৭৪ সালে সায়েন্টিফিক ডিজাইন কোম্পানী এবং জেম্স কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানী (যুক্তরাষ্ট্র) কে এ প্রকল্পের কারিগরী পরামর্শদাতা নিয়োগ করা হয়। ভিনেল কর্পোরেশন (যুক্তরাষ্ট্র) এর সাথে ৭ অক্টোবর ১৯৭৪ সালে প্রকল্প এলাকায় মাটি ভরাটের চুক্তি সম্পাদিত হয়। ১লা জানুয়ারী ১৯৭৫ সালে ড্রেজিং এর সাহায্যে মাটি ভরাটের কাজ আরম্ভ হয় এবং অক্টোবর মাসে শেষ হয়।

 

১৯৭৬ সালে কারখানার নির্মাণ কাজ আরম্ভ হয়। প্রাথমিক প্রাক্কলিত সময়সূচী অনুযায়ী কোম্পানীর নির্মাণ কাজ ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অক্টোবর, ১৯৮০ সালে কারখানার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয় এবং ১৫ ডিসেম্বর ১৯৮১ সালে কারখানার পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু নানাবিধ যান্ত্রিক গোলযোগের জন্য কারখানা স্থিতিশীল উৎপাদনে পৌঁছতে পারেনি। ১২ ডিসেম্বর ১৯৮১ সালে তৎকালীন সরকারী সিদ্ধান্তে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার এন্ড কেমিক্যাল কোম্পানী (এএফসিসি) এর নাম পরিবর্তন করে জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেড নামকরণ করা হয়। ১৯৮৩ সালের নভেম্বর মাসে কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ফষ্টার হুইলারের চুক্তি বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালের ১লা ডিসেম্বরে সরকার কর্তৃক অত্র কারখানার ব্যবস্থাপনার ভার বিসিআইসি’র উপর ন্যস্ত করা হয়। ১৯৮৩ সালের জুলাই মাস হতে এই কারখানার বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। এ ধরনের একটি উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন রাসায়নিক সার কারখানার আয়ুষ্কাল ২০ বছর ধরা হলেও বিগত ১৩ বছর পূর্বেই তা অতিক্রম করেছে। স্বাভাবিকভাবেই আয়ুষ্কালশেষে এর উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে অত্র কারখানার স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ২০০৫ সনে অত্র কারখানা এবং বিসিআইসি এর অভিজ্ঞ কারিগরী বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে অত্র কারখানার একটি আর্থ-কারিগরী সমীক্ষা সম্পাদিত হয়। উক্ত সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে “জেডএফসিএল (তৎকালীন) এর মেরামতের মাধ্যমে স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা অব্যাহত রাখা’’ শীর্ষক প্রকল্প প্রস্তাব বিসিআইসি হতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিকল্পনা কমিশনের নিকট প্রেরণের প্রেক্ষিতে বিগত ০৩/০৩/২০০৭ তারিখে একনেক কর্তৃক জেডএফসিএল (তৎকালীন) এর জন্য ১৯০২১.৭০ লক্ষ টাকা ব্যয় সম্বলিত ডিপিপি অনুমোদন করা হয়। কিন্তু মূল ডিপিপিতে জেডএফসিএল (তৎকালীন) এর মেশিনারীজ / যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বাজারে সে সব আইটেমের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিপিপি এর বাস্তবায়ন কাজে বিঘ্ন ঘটে। তাই ডিপিপি এর বাস্তবায়ন কাজ যথাসময়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সংশোধিত ডিপিপি (আরডিপিপি) প্রণয়ন করায় প্রকল্পটির সংশোধিত অর্থের হিসাব ১৯০২১.৭০ লক্ষ টাকার স্থলে ৪৮১৩২.৫৫ লক্ষ (জিওবি ২০০৩০.০৭ লক্ষ টাকা + কারখানার নিজস্ব অর্থায়নে ২৮১০২.৪৮ লক্ষ টাকা) টাকায় উন্নীতকরত: প্রকল্পটি  গত ০৭/০১/২০১০ তারিখে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। একনেক সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নিমিত্তে সার কারখানাটির নাম পরিবর্তন করে “আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার এ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানী লিমিটেড (এএফসিসিএল)”করা হয় এবং উল্লিখিত বরাদ্দের বিপরীতে মোট ২৩৫১৭.১৬ লক্ষ টাকা (জিওবি ফান্ড ১৪৭৪৩.৪৬ লক্ষ টাকা + এএফসিসিএল এর নিজস্ব ফান্ড ৮৭৭৩.৭০ লক্ষ টাকা) ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। উল্লেখ্য, সংশোধিত ডিপিপি (আরডিপিপি) এর অন্তর্ভূক্ত বেশীরভাগ যন্ত্রপাতির প্রতিস্থাপন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং বাকি দু’একটি আইটেমের কাজ প্লান্ট সাটডাউন-২০১৩ এর আওতায় শেষ করা হয়েছে।

 

বিগত ওভারহলিং-২০১১ এর সিডিউলভূক্ত কাজসমূহ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হলেও নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘ প্রায় ৩৩ বছরের পুরাতন কারখানার মেরামতযোগ্য সকল ইক্যুইপমেন্ট/মেশিনারীজ যেমন শুধু একটি ওভারহলিং সিডিউলের অন্তর্ভুক্ত করা যায়না তেমনি পরবর্তী সময়েও নতুন নতুন যান্ত্রিক সমস্যার উদ্ভব হয়। তার উপর সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস রেশনিং এর কারণে প্রতিবছর কারখানার উৎপাদন প্রায় ৫/৬ মাস বন্ধ রাখতে হচ্ছে এবং দীর্ঘকালীন বন্ধজনিত কারণে সৃষ্ট করশোনের ফলে কারখানার প্রায় ছোট বড় সব ইক্যুইপমেন্ট/মেশিনারীজ/ভেসেল এর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলশ্রুতিতে সম্প্রতি কারখানার নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে এবং কারখানার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছেনা। এতদত্ত্বেও কারখানার বিরাজমান সমস্যাবলী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করে সেগুলো পর্যায়ক্রমে প্রতিকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্লান্ট সাটডাউন কর্মসূচী-২০১৩ এর আওতায় কয়েকটি উল্লেখযোগ্য CRITICAL PROCESS EQUIPMENTS (HPCC,   HP Stripper ও Waste Heat Boiler) প্রতিস্থাপনসহ মেরামতি/রক্ষণাবেক্ষণ সম্পন্ন করা হয়। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে গ্যাস রেশনিংজনিত বন্ধকালীন সময়ে Scheduled Shutdown Activity-2016 & 2017-এর আওতায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইক্যুইপমেন্টস প্রতিস্থাপনসহ আরও কিছু মেরামত/রক্ষণাবেক্ষণ সম্পাদন করা হয়েছে। প্রতিস্থাপনকৃত আইটেমগুলির মধ্যে Start-up Heater, Ammonia Condenser(2nos), Primary Reformer Tubes (4nos), Catalyst of Secondary Reformer & LTSC, SNC Boiler Screen Tubes (14nos), Ammonia Syn. Gas Water Cooler (5Nos), Syn. Gas Inter-stage Cooler (2Nos), 11KV 1120kw HP Solution Pump Motor, Ammonia Inter-stage Cooler (Item no:58-2103) এবং Ammonia Common Gas Silencer (completely repaired) উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া Scheduled Shutdown-2017 এর আওতায় বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় High Speed Rotating  মেশিনগুলোর পূর্ণাঙ্গ সার্ভিসিং/ওভারহলিংসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।  

 

বিসিআইসি’র নিয়ন্ত্রণাধীন আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার  এ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানী লিমিটেড সার উৎপাদনকারী কারখানা সমূহের একটি অন্যতম প্রতিষ্ঠান। উৎপাদন, বিপণন, সরকারী কোষাগারে অর্থ প্রদান, কর্ম সংস্থান, দেশের কৃষি অর্থনীতিতে অবদান ইত্যাদির মাপকাঠিতে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার এ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানী লিমিটেড বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত সফল ও সুপরিচালিত শিল্প প্রতিষ্ঠান।


Share with :

Facebook Facebook